শুক্র. জানু ২২, ২০২১

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

কাফনের টাকা হাতিয়ে নেয়া এসআই এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থার দাবী সচেতন মহলের

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্টঃ-

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে কাফনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এসআই শহিদুলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সর্বমহলে বেশ আলোঢ়ন সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে এসআই শহিদুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে বন্দরে সচেতন মহল।

গত ২৮ ডিসেম্বর স্থানীয় পত্র-পত্রিকাসহ অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হলে গণমাধ্যম কর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা বৃদ্ধা কমলার বাড়িতে গিয়ে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য নিয়ে আসে। এবং এসআই শহিদুলের একাধিক মনোণিত ব্যাক্তিরা এ বিষয় বৃদ্ধা কমলা বেগমকে মূখ খুলতে নিষেধ করে এবং বৃদ্ধা মহিলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকার অফার করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এ ঘটনা থেকে বাঁচতে এসআই শহিদুল নানা কৌশল অবল্বন করে সংবাদকর্মীদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনি বিভিন্ন ভাবে ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও কাফনের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এসআই শহিদুল এখনও বহাল তবিয়তে কি করে থাকে এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অপর দিকে, গত ৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে দক্ষিণ কলাবাগ খালপাড় এলাকার ইউসুফ আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা কমলা বেগমের কাফনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত এসআই শহিদুলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বৃদ্ধা কমলা সংবাদকর্মীদের কাছে শহিদুলের জড়িত থাকার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন। এতঃপর সেই বৃদ্ধা কমলা বেগমের ফোনআলাপের রেকডিংটি হুবাহুব তুলে ধরা হলো। এবং রেকডিংটি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

ফোনআলাপে বৃদ্ধা নারী বলেন, রাত ২ টায় আমার বাড়িতে বন্দর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম বাড়িতে আসে। পরে ঘরের দরজা খুলে দিলে পুলিশ, সাংবাদিক ও সোর্স ঘরের ভিতর ঢুকে সব তছনছ করে ফেলেছে। পরে আমার ছেলের টাকা পেয়েছে এবং আমার জমানো কাফনের টাকা খুঁজে পেয়েছে। আমি সহ আমার ছেলে সবাই বলছে এ টাকা আমার মায়ের জমানো কাফনের টাকা। তখন তারা কোন কথাই শুনেন নাই, তারা টাকা নিয়ে যাবেই। আমরা সবাই অনেক বার বলছি প্রয়োজনে কোরআন শরীফে হাত দিয়ে শপথ করার কথা বলেও দারোগা শহিদুলের হাত থেকে কাফনের জমানো টাকা রক্ষা করতে পারি নাই। টাকা নেওয়ার সময় বাধা দিলে শহিদুল দারোগা বলে বেশি কথা বললে হাতে হাত কড়া লাগায় দিবো, সাথে ধরে থানায় নিয়ে যাবে বলে।

অপর দিকে, দক্ষিণ কলাবাগ খালপাড় এলাকায় বৃদ্ধা কমলা বেগমের বাসায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কান্না জড়িত কন্ঠে ক্ষোভের সাথ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এ ঘটনা নিয়ে আমি ও আমার পরিবার খুবই সমস্যার মধ্যে আছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ আমার বাড়িতে এসে নানা রকম কথাবার্তা বলছে। আমি এ ঘটনা নিয়ে আর কোন কথা বলবো না। আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি, দারোগা টাকা নিয়েছে নিছে। আমরা তো আর পুলিশের সাথে পারতাম না, ওদের বিচার আল্লাহ করবে। আমি ওদের মাফ করে দিছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook