বৃহঃ. আগ ১৩, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এখন মানুষ হত্যার কারখানা!

নিজেস্ব প্রতিবেদক:-

বন্দরে মদনগঞ্জ বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সময় এক শ্রমিকের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হলেও আহত হয়েছে আরও দুই জন। এঘটনায় কর্তৃপক্ষরা দামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৪ জুন শুক্রবার সকাল ১১ টায় সময় র-মেটারিয়াল (হপার) পরিস্কার করার সময় তিন শ্রমিক কেঁরেন ছিঁড়ে হপারের ভিতর পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে । এতে ঘটনাস্থলেই আসলাম নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে আরও দুই জন।

নিহত শ্রমিক কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা এলাকার আসলাম। তবে বাকী আরও দুজনের ঠিকানা জানা যায়নি।

এদিকে শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে নিহতের লাশ তড়িগড়ি করে বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে।

বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ভিতরে প্রায় সময় কাজ করার সময় শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে থানা পুলিশ কাউকে না জানিয়ে নদীর পাড় দিয়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে লাশ পাঠিয়ে দেয়। এছাড়াও ধুলাবালির কারণে পরিবেশ দূষণে মৃত্যুর মূখে বসবাস করছে মদনগঞ্জবাসী। কাজ করার সময় শ্রমিকের বিভিন্ন সারঞ্জাম না থাকায় প্রতিনিয়তই মৃত্যু হচ্ছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে দামাচাপা দিচ্ছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে কম বেতনে শ্রমিক নিয়ে আসে কম্পানিতে। কিছুদিন কাজ করার পরে মৃত্যু হলে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে দেশে লাশ পাঠিয়ে দেয়। তারা এভাবে শ্রমিক নিয়ে এসে মেরে ফেলছে বলেও জানান।

এ বিষয় স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ সাগরের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক কাজ করার সময় মৃত্যু হয়েছে তা আমি জানি না। কারণ শুক্রবারে আমার অফিস বন্ধ থাকে। তাছাড়া আমি এলাকায় ছিলাম না। আমি রাতে একটু খবর পেয়েছি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ভিতরে নাকি কাজ করার সময় একটি দূর্ঘটনা ঘটে। সাধারনত কোন কম্পানিতে দূর্ঘটনা ঘটলে থানায় অবহিত করে সমাধান করে লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু এটা হত্যা নাকি দূর্ঘটনা জানা যেতো ময়নাতদন্ত করার পরে।

হত্যা না দূর্ঘটনা এবিষয় তথ্য সংগ্রহ করতে বন্দর মডেল প্রেস ক্লাবের ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম মদনগঞ্জে বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ভিতরে গেলে সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. শরীফ বলেন নির্বাহী পরিচালক আরজু ভূইয়া এখনও আসেনি। তিনি বিকেলে আসবে তার কাছ থেকে তথ্য নিয়েন। এই মূহুর্তে এডমিন ইনচার্জ সুমন মিয়ার সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলেও তিনি দেখা করেনি। তখন সিকিউরিটি ইনচার্জ শরীফ মিয়ার কাছে ফোন আসতে থাকে এবং কোন তথ্য দিতে রাজি হয়নি। পরে প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যু ও আরও দুইজন আহত হয়েছে বলে সত্যতা পাওয়া যায়।

এ ব্যপারে বসুন্ধরা সিমেন্ট কারখানার ম্যানেজার আরজু রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গত ১৪ জুন শুক্রবার সকালে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং আরও দুইজন আহত হন এ বিষয় বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমরা এধরনের কোন খবর পাইনি। আমাদের কেউ তথ্য দেয়নি। যদি আমাদের কাছে নিহত পরিবার আসতো তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতাম। ১৫ জুন দুপুরে অনুসন্ধানে পরে আবারও থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম জুয়েলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন অপরাধি যেই হউক না কেনো আমরা তাদের কোন ছাড় দিবো না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অবশ্যই আমাদের কাছে আসবে সেবা নিতে। তাই আমরা সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্ঠা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook