শনি. নভে ২৮, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

শিবির কর্মীর জন্য ফতুল্লা থানার এএসআই মিজান পিটালো আওয়ামীলীগ কর্মিকে

নিজেস্ব প্রতিবেদক:-

ইট বালু সিমেন্ট ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা মো. আশিকুর রহমান মোল্লাকে বেধরকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা মডেল থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. মিজানের বিরুদ্ধে।

গত ২৩ মে রাতে ফতুল্লার জালকুড়ী দেলপাড়া ব্যাংক কলণী এলাকায় রাত ১২ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন আশিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জ ৩০০শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে চিকিৎস্য নেয়।

জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কাছে এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানিয়ে আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওইদিন রাতে যেকোন কারণে পুলিশ শিবির কর্মী ইউনুস খানের কাছে আসে। আমি বিষয়টি জানতে সামনে এগিয়ে যাই। পরবর্তীতে ইউনুস খানকে বলি যে, এতো ছোট-খাটো ঘটনায় কি পুলিশ আনতে হয়? এই কথা বলার সাথে সাথে এএসআই মিজান ও তার নেতৃত্বধীন আরও ৫ থেকে ৬জন পুলিশ আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে বেধরকভাবে নির্যাতন করে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নীলাফুলা জখম করে। চোখে ও গোপনাঙ্গেও আঘাত করে।

তিনি আরও বলেন, এএসআই আমাকে হুমকী দিয়ে বলেন, তুই কি শামীম ওসমানের লোক? আমরা শামীম ওসমানকে…………………….! আমরা এসপি হারুনের লোক। নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের নাম উল্লেখ্য করে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। এছাড়াও বলেন, বেশি কথা বললে গুলি করে দিবো। তার নেতৃত্বাধীন কনস্ট্রেবলদের তিনি বলেন, দে দে ওরে গুলি করে দে।

মো. আশিকুর রহমান মোল্লার বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজটি প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ দর্শী নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, যে একজন মানুষকে এভাবে কেউ মারতে পারে না, তারা (পুলিশ)
যেভাবে তাকে (মো. আশিকুর রহমান মোল্লাকে) মারধর করেছে সে নিরঘাত মৃত্যুর মুখে ধাবিত হতো। আমাদের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকজন ঔ সময় ছেলেটিকে বাচাতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার পা ধরতে পর্যন্ত বাধ্য হই। এর এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে (মো. আশিকুর রহমান মোল্লাকে) ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজটি প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।

বিষয়টি জানতে মুঠোফোনে ফোন করা হলে ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই মিজান বলেন, আমি ওইখানে একটি মামলার বিষয়ে গিয়েছিলাম। যেখানে বাদি ও বিবাদীদের সাথে কোন সমস্যা নেই। সেখানে তিনি (আশিকুর রহমান) এসে বলেন এ সকল বিষয়ে পুলিশ লাগে নাকি? পুলিশ কোন……….! পুলিশ আমাদের পকেটে থাকে। এরপর আমি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষে আমার পুলিশ বাহিনীকে বলি ওনাকে গাড়ীতে উঠান। তিনি স্বেচ্ছায় না উঠে আমাদের সাথে অনেক্ষণ যাবৎ ধস্তাধস্তি করেন। এতে করে তিনিও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাথা পান সেই সাথে পুলিশ সদস্যও আঘাত প্রাপ্ত হয়। ওইখানে ঘটনা এইটুকুই এর চেয়ে বেশী কিছুই হয় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook