শুক্র. সেপ্টে ২৫, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

সম্পত্তির জন্য পিতা মাতাকে পিটিয়ে জখম করলো সন্তানরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য পিতা মাতাকে চাঁপ প্রয়োগকরে বেদম প্রহারের মাধ্যমে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্তানরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ জুন বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণ এনায়েতনগর এলাকায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দক্ষিণ এনায়েতনগর এলাকার আব্দুল মালেকের কু-সন্তান মো. মাসুম, নাছিমা ও তাছলিমা সহ আরো কয়েকজন সম্মিলিতভাবে ২১ জুন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় জোর পূর্বক বসত বাড়িতে ঢুকে পিতাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করে। এমন সময় আঃ মালেকের স্ত্রী সুফিয়া বেগম তাৎক্ষণিকভাবে সন্তানদের বাঁধা প্রদান করলে মাসুম, নাছিমা ও তাছলিমা সহ তাদের সঙ্গীয় রওশন এবং তানভীর সঙ্গবদ্ধ হয়ে সুফিয়া বেগমকে এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলা ফুলা জখম করে। সুফিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাসুম, রওশন ও নাসিমা বুকের উপর উঠে লাথি মারলে সুফিয়ার বুকের ২টি হাড় ভেঙ্গে মারাত্মক জখম হয়। এই সময় মাসুম সুফিয়া বেগমের গলায় থাকা ১টি এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার মূল্য ৪৮ হাজার টাকা) নিয়ে যায়। এমন সময় সুফিয়া বেগমের স্বামী আঃ মালেক ও এক ছেলে সাকিব আহাম্মেদ তাদের বাঁধা নিষেধ দিলে অভিযুক্তরা তাদেরকেও মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলা ফুলা জখম করে। রওশন তাৎক্ষণিকভাবে দৌড়ে ঘরে ঢুকে আলমারী ভেঙ্গে নগদ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পিতা মাতার আহাজারিতে এলাকার আশেপাশের লোকজন দৌড়ে চলে আসার সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এলাকার লোকজন সুফিয়া বেগম ও আঃ মালেককে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। উল্লেখ্য যে, আঃ মালেকের মো. মাসুম (৩৫), তাছলিমা (৩০) ও নাসিমা (২৮) এই তিন সন্তান প্রথম সংসারের। তাদের মা স্বামী সন্তান ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে আরেকটি বিবাহ করে। পরবর্তীতে পিতার কাছ থেকে সন্তানদের নিয়ে চলে যায় প্রথম স্ত্রী। এমন অবস্থায় আঃ মালেক দ্বিতীয় বিবাহ করে সুফিয়া বেগমকে। এই ঘরেও ৩টি সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে অভিযুক্ত মাসুম, তাছলিমা ও নাসিমা ফতুল্লা থানাধীন তল্লা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় বসবাস করছে। ঐ এলাকায় তিন সন্তানের নামে আঃ মালেক একটি জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। তার পরেও দক্ষিণ এনায়েতনগর এলাকার সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য দীর্ঘদিন যাবতৎ ষড়যন্ত্র করে আসছে। এ ব্যাপারে আঃ মালেক বলেন, আমি দীর্ঘদিন সরকারি চাকুরী করেছি, এখন অবসরে আছি। দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ অবস্থায় রয়েছি। আমার ঐ সন্তানরা কখনও কোন সময় খোঁজখবর নেয়নি। বরং আমার কাছ থেকে বরাবরি সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে। আমি কখনও তাদের নিরাশ করিনি। এখন আমাকে ওরা মেরে ফেলতে চায়। চায় সম্পত্তি। সম্পত্তি লিখে না দিলে আমার ঐ কুলাঙ্গার সন্তানরা কাউকে বাঁচতে দিবেনা বলে হুমকি দেয়। অথচ আমি একজন হার্টের রোগী। গুরুতর আহত মালেকের স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানায়, আমি ওদেরকে আমার সন্তানের মত দেখেছি। কখনও আলাদা করে দেখিনি। তারপরেও মাসুম, তাছলিমা ও নাসিমা আমাকে সহ্য করতে পারেনি। বর্তমানে আমার স্বামীর শেষ সম্বল এই বাড়িটুকু দখল করে নিতে চায়। আমার গর্ভের সন্তানদের মেরে ফেলতে চায়। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই। কোন সন্তান যেন পিতা মাতাকে এইভাবে মারতে না পারে সেই জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আঃ রাজ্জাক বলেন, পিতা মাতাকে যে সন্তানরা মারধর করে তারা কখনও ভালো হতে পারেনা। লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় এখনও মামলা রেকর্ড হয়নি। তবে আঃ রাজ্জাক বলেছেন, ওসি স্যার ছুটিতে থাকায় মামলা রেকর্ড হতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত মামলাটি রেকর্ড হবে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook