মঙ্গল. সেপ্টে ২৯, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

সোনারগাঁয়ে নৃত্য শিল্পীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয় উপজেলায় পরিত্যক্ত কাশবনে স্বামীকে বসিয়ে রেখে এক নৃত্য শিল্পীকে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে সোনারগাঁ সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকার কনকর্ড ফ্যাক্টুরির পরিত্যক্ত কাশবনে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় সে রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সুচারগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল্লাহর ছেলে মাহমুদুল হাসান হিমেল, কালিগঞ্জ গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে শফিকুর ইসলাম রনি ও ইলিয়াসদী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সজিব। বাকি আরো দুজন অভিযুক্তরা হলো, শাহজাহান মিয়ার ছেলে সানজিদ ও বন্দর উপজেলার পিছকামতাল গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে সিয়াম।

দায়েরকৃত মামলার বরাত দিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী পেশায় একজন নৃত্য শিল্পী। তার একটি নৃত্যের দল রয়েছে। বিভিন্ন সময়, স্থানে কনট্রাকের বিনিময়ে বিয়ে, সুন্নতে খাতনা, গায়ে হলুদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য করে থাকেন। গ্রেপ্তরকৃত হিমেল ভুক্তভোগী নৃত্য শিল্পী, তার স্বামী হুমায়ুন কবির, নৃত্য সহযোগী আশামনি, মামুনকে ৬ হাজার টাকার মজুরির ভিত্তিতে প্রোগ্রাম করার জন্য দড়িকান্দি এলাকায় নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত হিমেল তাকে প্রোগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর স্বামী হুমায়ুন কবির, আশামনি ও অন্যন্যদের কনকর্ড ফ্যাক্টুরির পরিত্যক্ত আনসার ব্যারাকে বসিয়ে রেখে হিমেলের বাড়িতে ড্রেস পরিবর্তনের কথা বলে নৃত্য শিল্পী ও তার সহযোগী শিল্পী মামুনকে কাঁশবনের ভেতর দিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় কাঁশবনের ভেতরে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা শফিকুর ইসলাম রনি, সজিব, সানজিদ ও সিয়াম সহযোগী শিল্পী মামুনকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে আটক করে নৃত্য শিল্পীকে ৫ জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সহযোগী শিল্পী মামুনের সহযোগীতায় ভুক্তভোগী তার স্বামীর কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে সোমবার রাতে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর থেকেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে তারা। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook