দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

টানবাজারে যুবককে খুন

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:

পাওনা টাকা না দেয়ায় নগরীর টানবাজার এলাকায় আরিফ নামে এক হোসিয়ারি শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করে খুনের অভিযোগ উঠেছে তারই এক সহকর্মী সোহরাব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন মিরাজ নামে আরিফের এক সহকর্মী যুবককে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যায় জড়িত অভিযোগে মিরাজকে আটক করে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের টানবাজার এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ওয়াকওয়েতে এ হত্যাকান্ড ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করেছে। নিহত আরিফ শহরের নিতাইগঞ্জ ঋষিপাড়া এলাকায় ভাড়াটে বাসিন্দা মাটি কাটার শ্রমিক আব্দুল মতিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলম মোস্তফা জানান, আরিফ কিছুদিন আগে সোহরাব হোসেন নামে তার এক সহকর্মীর কাছ থেকে ৭০০ টাকা ধার নেয়।

সে টাকা সোহরাব ফেরত চাইলে আরিফ দেই দিচ্ছি বলে ফেরত দেয়নি। বরং সোহরাবের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে কারখানার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সোহরাব আরিফকে ডেকে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নিয়ে যায়।

সেখানে মিরাজ সহ আরো কয়েকজন যুবক আগে থেকেই উপস্থিত ছিল। পরে সেখানে সোহরাব পুনরায় অরিফের কাছে টাকা চাইলে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরিফের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সোহরাব ও তার সহযোগিরা।

এরপর আরিফের বুকেসহ শরীরের কয়েক জায়গায় ধরালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে সোহরাবসহ তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়।

এসময় আরিফের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা মিরাজ নামে একজনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

আরিফের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন সেতু বলেন, আরিফের কাছ থেকে কেউ টাকা পেতেন সেটা আমরা কেউ জানতাম না। আমাদের দাবি এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হউক।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়েছে। আটক মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই সাথে অভিযুক্ত সোহরাবসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook