অক্টোবর ২৮, ২০২১

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

না’গঞ্জবাসীর জন্য জননেতা নাসিম ওসমান ছিলেন সৃষ্টিকর্তার অনন্য আশির্বাদঃ অনাবিল নির্ঝর

রাশেদুল হাসান অভিঃ

আজ শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ- ৫ (সদর-বন্দর) আসনের ৪ বারের নির্বাচিত সাবেক সাংসদ প্রয়াত জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা সমাজ কল্যাণ পরিষদ’ সামাজিক সংগঠনের কার্যকরি কমিটির উপদেষ্টা অনাবিল দাশ নির্ঝর।

অনাবিল দাশ নির্ঝর গণমাধ্যমের কাছে দেয়া তার শোকবার্তায় আরও বলেন,

নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য মরহুম জননেতা নাসিম ওসমান ছিলেন সৃষ্টিকর্তার অনন্য আশির্বাদ। ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখানো ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং জীবন বাজি রেখে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার প্রতিবাদে মরহুম নাসিম ওসমান তার বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠান ও নববধূকে রেখেই চলে যান এক কঠিন ও কষ্টদায়ক আন্দোলনে। এভাবেই দেশের জন্য বহু আন্দোলন-সংগ্রামে এই মহান ব্যক্তিটির রয়েছে অভাবনীয় অবদান।

এছাড়াও তিনি সর্বদাই নিজেকে আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর সুখ-দুঃখে সর্বদা তিনি পাশে ছিলেন একজন সুযোগ্য অভিভাবক হয়ে। তাই নারায়ণগঞ্জবাসীও তাকে সবসময় প্রাণভরে ভালবেসেছে। এই অকৃত্রিম ভালবাসার ফলেই জনগন মরহুম নাসিম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনে বারবার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত করেছেন।

প্রয়াত নাসিম ওসমান বন্দরকে ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তা বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছিলেন। আজ আমাদের বন্দরের যত উন্নয়ন আমরা দেখতে পাই তা বেঁচে থাকতে মরহুম নাসিম ওসমানই প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জোয়ারের শুরুটা মরহুম নাসিম ওসমানই করে গিয়েছেন। এমনকি মহান জাতীয় সংসদে মরহুম নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জবাসীর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানের জন্য বলিষ্ঠ কণ্ঠে কথা বলতেন। জাতীয় সংসদের সবাই অধীর আগ্রহে মনোযোগ দিয়ে শুনতেন তার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত কথাগুলো। তিনি কখনো নারায়ণগঞ্জবাসীর কল্যাণের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপোষ করেননি। সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন।

এছাড়াও যদি রাজনীতি বিষয়ে বলতে হয় তাহলে আমি বলবো আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে মরহুম নাসিম ওসমান ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার কারণে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং আপন ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। প্রয়াত নাসিম ওসমান জাতীয়ভাবে নিজেকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্তও তার সাথে পরামর্শ করে নেয়া হতো।

পাশাপাশি আমাদের নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জনকল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে তার। লাখো -লাখো নেতাকর্মীর শিক্ষাগুরু ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত বহু প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ মরহুম নাসিম ওসমানের হাতেই গড়ে উঠা। এছাড়াও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাণ ছিলেন তিনি। সকল নেতাকর্মী যখন প্রয়োজন হয়েছে তাদের সুখ-দুঃখে মরহুম নাসিম ওসমানকে পাশে পেয়েছে একজন সুযোগ্য অভিভাবক হিসেবে।

সর্বোপরি আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য তিনি ছিলেন এক বটবৃক্ষ। নারায়ণগঞ্জবাসীর সকল দুঃসময়ে তিনি বটবৃক্ষের শীতল ছায়ার মতো ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু জননন্দিত এই জননেতা মরহুম নাসিম ওসমানকে আমরা খুব শীঘ্রই হারিয়ে ফেলেছি। এমন একজন মহান নেতার শুন্যতা যে আর পূরণ হবার নয় তা এখন নারায়ণগঞ্জবাসী খুব ভালভাবেই বুঝতে পারছে। কারণ মহান সৃষ্টির্তার এমন বিশেষ আশির্বাদ বারবার আসে না।

আমি আমাদের সাবেক জননন্দিত সাংসদ, গণমানুষের নেতা মরহুম নাসিম ওসমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। মহান সৃষ্টিকর্তা প্রিয় নেতাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ সুখ দান করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook