দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

নৌকার বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৭ ভোটের আজিজ বনে গেছে ধামগড় আ.লীগ নেতা

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্টঃ-

নারায়ণগঞ্জে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়নের নাম ধামগড়। এই ইউনিয়নের দুই পাশের ইউনিয়নের নাম মুছাপুর ও মদনপুর। ধামগড় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতা

প্রয়াত আয়নাল হক চেয়ারম্যানের বড় ছেলে আজিজ নবযোগদানকারি কথিত একজন আওয়ামীলীগ নেতা। নৌকা প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আজিজ ধামগড়ে ৭টি ভোট পেয়েছেন গত ইউপি নির্বাচনে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও বন্দর উপজেলার মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি জাতীয় পার্টির একজন অন্যতম নেতা আয়নাল হক চেয়ারম্যান তার পরিবার। আয়নাল হক চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে কামাল হোসেনও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে নৌকা প্রতীক মাসুম আহম্মেদের সঙ্গে পরাজিত হয়। সম্প্রতি বন্দর সমরক্ষেত্রে এক অনুষ্ঠানে এমপি শামীম ওসমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে আজিজুল হক। শুভেচ্ছা জানানোর পর থেকে আজিজুল হক আওয়ামীলীগ নেতা দাবি করে স্থানীয় জাতীয় পার্টির বির্তকিত কয়েকজন নেতার সহায়তায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক প্রত্যাশি আজিজুল হক। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ধামগড় থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের ঘোষনা করায় নানা বিভ্রান্তে পড়েছে ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দলীয় সর্মথনের তোয়াক্কা না করে আজিজুল হকের এমন কর্মকান্ডে স্থানীয় তৃণমূল আওয়ামীলীগ ও জনসাধারণের মধ্যে সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।

 

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তৃণমূল কর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, জাতীয় পার্টির পরিবার হিসাবে পরিচিত প্রয়াত আয়নাল হক চেয়ারম্যান। ধামগড় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সক্রিয় রাজনীতি ব্যক্তিত্ব আজিজুল হক ও কামাল হোসেন। বিগত সময়ে ধামগড় ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক নেতা হিসাবে প্রয়াত আয়নাল হক প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। আয়নাল হক চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার পর তার ছেলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ে লাঙ্গল প্রতীকে নৌকা প্রতীকের সঙ্গে পরাজিত হয়ে এবারের আসন্ন নির্বাচনে আজিজুল হক নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন এ নিয়ে তৃণমূল আওয়ামীলীগের মধ্যে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে।

 

গত নির্বাচনে আজিজুল হকের ছোট ভাই কামাল হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পরাজিত করে মাসুম আহম্মেদ নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন। মাসুম আহম্মেদ বংশগত ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। মাসুম আহম্মেদের বড় ভাই প্রয়াত কামিজউদ্দিন স্থানীয় প্রভাবশালী একজন আওয়ামীলীগ নেতা, কামিজউদ্দিনের ছেলে আবু সাঈদ ছাত্রলীগ নেতা ও নির্বাচিত ইউপি সদস্য। বর্তমান ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদের পিতা প্রয়াত রিয়াজউদ্দিন ইউপি সদস্য হিসাবে কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। পারিবারিক ভাবে মাসুম আহম্মেদ আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক হিসাবে এক পরিচিত পরিবার।

 

হৃদয় আহম্মেদ নামে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, বিগত ইউপি নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জণনেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা দলীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই ওই প্রার্থীকে ভবিস্যতে দলীয় মনোনয়ন দেবেন না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন। দলীয় হাইকমান্ডে নির্দেশনা উপেক্ষা করে আজিজুল হক নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবে বলে আজিজুল হক অপপ্রচার চালিয়ে যাাচ্ছেন। গত নির্বাচনে মাসুম আহম্মেদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়ে রজণীগন্ধা প্রতীকে নির্বাচনে ধামগড় ইউনিয়নে সর্ব মোট মাত্র ৭ টি ভোট পেয়েছিলেন আজিজুল হক।

 

সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নৌকা প্রতীকের সঙ্গে পরাজয় বরণ করার সাড়ে ৪ বছর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলেও হঠাৎ আওয়ামীলীগের নেতা বনে গিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের ঘোষনা করে যাচ্ছেন আজিজুল হক। কিন্তু আজিজ নিজেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের দাবি করলেও আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও তৃণমূল পর্যায়ে এখনো সাড়া পাচ্ছে না আজিজ।

 

আজিজুল হক তার পরিবার ক্ষমতায় বসলেই জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইটভাটার ইট ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন সবসময়। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে ব্যাপক উন্নয়নে ভাসছে ধামগড় ইউনিয়ন এলাকা।

 

ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ জানান, দলীয় নৌকা প্রতীকে গত ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এমপি সেলিম ওসমান ও সরকারি অর্থায়নে দলীয় সহায়তায় ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নে পাশে রয়েছে। অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে চেয়ারম্যান হিসাবে না হলেও আওয়ামীলীগের একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে জনগনের সঙ্গে আছি, এবং ভবিস্যতেই থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook