দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

বন্দরে যুবলীগের সেক্রেটারি খন্দকার হাতেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি!

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্টঃ-

নারায়ণগঞ্জে বন্দর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাতেম হোসেনকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চেক প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক রায়ে এ নির্দেশ দেয়া হয়। উল্লেখিত ১০৬/২০২১ মামলার অপর আসামীরা হলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩৮) পিতা মৃত মোঃ লুৎফর রহমান এবং মোঃ ফেরদৌস ইসলাম (৪৭) পিতা মোঃ নুরুল ইসলাম৷

খন্দকার হাতেম হোসেন বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের মৃত আঃ মজিদ খন্দকারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় যাবত বন্দর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মামলার বাদী ব্যাবসায়ী সাইফুল ইসলাম পলাশ মদনপুর ইউনিয়ন এর বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জানান, বাদীর সঙ্গে আসামি খন্দকার হাতেম হোসেন এর বন্ধুত্বপূর্ন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বাদীর প্রতিষ্ঠানে (মেসার্স আল্লাহর দান ব্রিকস এন্ড ম্যানুফ্যাকচারার) এ খন্দকার হাতেম এর যাতায়াত ছিল। এর মধ্যে খন্দকার হাতেম গংরা কৌশলে বাদীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বাদীর ব্যাংক একাউন্ট (প্রিমিয়ার ব্যাংক) এর কিছু চেক চুরি করে নিয়ে যায়৷ তার কিছুদিন পর ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা লিখে হয়রানি ও আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে একটি চেক আল আরাফাহ ইসলামি ব্যাংকে ইস্যু করেন ১নং আসামি শরিফুল ইসলাম। কিন্তু পূর্বেই বাদী সাইফুল ইসলাম পলাশ চুরি হয়ে যাওয়া চেক গুলো সম্পর্কে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার ফলে ব্যাংক থেকে সেই চেক ফিরিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালীশের মাধ্যমে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা লিখিত একটি চেক ১নং আসামী শরিফুল ইসলাম ও ৩নং আসামী খন্দকার হাতেমের কাছে থেকে উদ্ধার করে দেন৷

এর কিছুদিন পর মামলার ২নং আসামী মোঃ ফেরদৌস ইসলাম ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লিখিত আরেকটি চেক আইএফআইসি ব্যাংকে ইস্যু করেন৷ সেই চেকটিও ব্যাংক থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে বাদী সাইফুল ইসলাম পলাশ নারায়ণগঞ্জ জেলা মাজিস্ট্রেট আদালতে উক্ত প্রতারকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন৷ আদালত সেই মামলা আমলে নিয়ে পিবিআই কে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন৷ পিবিআই এর তদন্তে উক্ত মামলার সত্যতা প্রমাণিত হলে পিবিআই আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন৷

পরবর্তীতে আদালত উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।

এ বিষয়ে বন্দর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাতেম হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook