জুলাই ২৭, ২০২১

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

মদনপুরে স্কুল মাঠে পশুর হাটের আবেদন, মহাসড়কের পাশে বিধায় যানজটে দূর্ভোগের আশংকা

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্টঃ-

ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে বন্দর উপজেলার মদনপুরের মুনস্টার ক্লাবের পূর্ব প্রান্তে খালি জায়গার নাম উল্লেখ করে একটি অস্থায়ী পশুর হাট আয়োজনের আবেদন জমা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন মহল সাংবাদিকদেরকে জানান, মুনস্টার ক্লাবের পূর্ব প্রান্তে খালি জায়গা উল্লেখ করে প্রতিবছর হাটের আবেদন করা হলেও মূলত খালি জায়গা বলতে মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠকে দখল করে সেখানে হাট বসানো হয় এবং আবেদন করা মুনস্টার ক্লাবটি নিয়ন্ত্রণ করে বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু ও কতিপয় বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা। উল্লেখিত হাটটি মদনপুর থেকে জয়দেবপুর এশিয়ান হাইওয়ে খ্যাত মেইন রোডের সাথে বসানো হয় এবং এটি অনেক ব্যস্ততম একটি সড়ক। উত্তরবঙ্গে মালামাল পরিবহনে বেশীরভাগ ট্রাক এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে এবং দিনের বেশীর ভাগ সময় এ রাস্তায় যানজট লেগে থাকে। নানান দিক বিবেচনায় নিয়ে গত দুই বছর এই মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। বিগত বছরগুলোতে এই মাঠে ঈদের সময় হাট বসানো হয়েছিল যা তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে জনগণের মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল। তাছাড়া স্কুলের মাঠে হাটটি বসানো হলে মাঠটি অকার্যকর হওয়া সহ স্কুলের পাশে মারাত্মক দূর্গন্ধযুক্ত একটি পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

অত্র স্কুল মাঠে পশুর হাটের অনুমোদন না দিতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ঈদুল আযহার পূর্বে মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, বন্দর ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছিলো।

তাছাড়া উক্ত বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন না দিতে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক ৩০/০৭/২০১৯ইং তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ৮০/২০১৯। সেই মামলার প্রেক্ষিতে এই পশুর হাট কেন বসাতে হবে অর্থাৎ অস্থায়ী পশুর হাটের নিষেধাজ্ঞা কেন দেয়া হবেনা মর্মে নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালত কর্তৃক দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারার বিধান মতে জেলা প্রশাসক, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মদনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারকে উপযুক্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়। ১ আগস্ট ২০১৯ তারিখে জারিকৃত শোকজ আদেশে ১-৪নং বিবাদীকে পরবর্তী ৩ দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে উপযুক্ত কারণ দর্শাণো বা সদুত্তর দেয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও বিবাদীগণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন কারণ দর্শায়নি। সে প্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট ২০১৯ নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালত কর্তৃক পরবর্তী আদেশ না দেয়ার আগ পর্যন্ত এ হাটের সাথে সম্পৃক্ত সকল কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেয়া হয়। উক্ত মাঠে পশুর হাট বসানো হলে মাঠে ময়লা আবর্জনা হবে, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হবে, পরবর্তী ২ মাস পর্যন্ত ময়লা আবর্জনা দূর্গন্ধ থাকবে এবং উক্ত মাঠে পশুর হাট বসলে রাস্তার গাড়ী চলাচলে বিঘ্ন ঘটে যানজট সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে মহামান্য আদালত এ হাটের উপর নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) জারি করে। সে মোতাবেক ২০১৯ ও ২০২০ সালে উক্ত মাঠে পশুর হাট বসানো বন্ধ থাকে।

বিষয়টি নিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ মুঠোফোনে জানান, ‘উল্লেখিত পশুর হাটের বিষয়ে আবেদন জমা পড়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

এ বিষয়ে কথা বলতে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকারকে ফোন দেয়া হলেও চলমান লকডাউন বাস্তবায়ন করতে তিনি বন্দরের বিভিন্ন জায়গায় কর্তব্যরত থাকায় ফোনে বিস্তারিত বলা সম্ভব হয়নি।

বন্দর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) আসমা সুলতানা নাসরিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আকারে জানালে আমরা খতিয়ে দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook