শনি. নভে ২৮, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

অনুপ্রেরনা

লেখকঃ সোহানুর রহমান সোহান

দুদিন হয়েছে ওর সাথে ব্রেকাপ হয়েছে।
সময়ের সাথে সাথে কষ্টের মাত্রাটা বেড়েই চলেছে।কোনোভাবেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিলাম নাহ।
শেষ পর্যন্ত আত্নহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
দোকানে যাচ্ছিলাম বিষ কিনতে।
এরমধ্যেই পেছন থেকে কে যেনো ডেকে উঠলো-
=ভাইয়া,ভাইয়া…?
=কি হয়েছে ভাইয়া বলো….?
=সকাল থেইকা কিছুই খাইনাই।কয়ডা টেকা দিবেন কিছু খাইতাম!
ছেলেটার শুকানো মুখটা দেখে বড্ড মায়া হলো।পকেটেও বেশি টাকা ছিলো না।
ছেলেটাকে নিয়ে একটা ছোটোখাটো হোটেলে ডুকলাম।ছেলেটার খাওয়া শেষ হলো।
বিল দিতে গিয়ে দেখলাম বিষ কেনার টাকাটাও পকেটে নেই।
ছেলেটাকে দেখে খুব ভালো লাগছে।মনে হচ্ছে বহুদিন পরে আজ পেট পূরে খেয়েছে।
ওর চোখের দিকে তাকাতেই ওর মুখে এক টুকড়ো হাসি দেখতে পেলাম।ওর হাসিটা দেখে কলিজাটা জুড়ে গেলো।
জিজ্ঞাসা করলাম…..
=কোথায় থাকো….?
=আমার কোন ঠিকানা নাই ভাই।পুরো দুনিয়াটাই আমার।
=বাবা-মা নেই?
=বাবা-মা অনেক আগেই মারা গেছে।পৃথীবিতে আপন বলতে আমার কেউ নাই।
=কাজ করোনা?
=ছোট মানুষ কেই বা কাজ দিবো।
=সারাদিন কি এরকম না খেয়েই থাকো?
=নর্দমায় বড়লোকেরা যেই জুটা খাবার ফালায় সেখান থেইকাই আহার জুটাই।কখনো কখনো নর্দমায় খাবার না পাইলে মাইনসের থেইকা চাইয়া খাই।
=কষ্ট হয়না এভাবে বেচে থাকতে?
=কিসের কষ্ট ভাই।বাইচা আছি এইটাই তো বড় সুখ।বড় হইয়্যা কাম-কাইজ করমু।কষ্ট কি আর সবসময় থাকবো ভাই!
ছেলেটার কথাগুলো শুনে এক ধরনের অনুপ্রেরণা পেলাম।বাবা-মা পরিবার-পরিজন কেউ নেই ছেলেটার।নর্দমার খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে তবুও নাকি ওর কষ্ট নেই।
কিন্তু আমার তো বাবা-মা,পরিবার-পরিজন সবাই আছে।তিনবেলা খাবার দেওয়ার মতো মানুষ আছে।তবুও কেনো আমি সামান্য কষ্ট পেয়ে আত্নহত্যা করতে যাচ্ছি….!
নাহ!
ছোট্ট ছেলেটা আজ আমার চোখ ফুটিয়ে দিয়েছে।
এতো কষ্ট করে জীবন চালিয়েও যদি ও বেচে থাকতে পারে।তাহলে একটা মেয়ের দেওয়া সামান্য কষ্ট পেয়ে কেনো আমি বাচতে পারবোনা!
এই পথের বাচ্চাটির অনুপ্রেরণাই আমাকে বাচিয়ে রাখবে……..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook