বৃহঃ. আগ ১৩, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

আওয়ামীলীগ নেতাদের শেল্টারে প্রভাব বিস্তার ছাত্রদল নেতা কেবল অপারেটর ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মশিউর রহমান শান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ জেলার অধীনস্থ ৫ টি থানা কমিটি এক জায়গাতেই আটকে যাচ্ছে বারবার। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি একান্ত ভাবেই চাইছেন সোনারগাঁ থানা ছাত্রদলের দায়িত্বে যেন মশিউর রহমান শান্ত’র কাধে আসে। কিন্তু সেখানে পুরোপুরি নারাজ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীব। যখনই থানা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে আলোচনায় বসা হয়, সব থানা কমিটি নিয়ে সমাধানে আসতে পারলেও সোনারগাঁ থানা কমিটি নিয়ে আটকে যাচ্ছে প্রক্রিয়া।

সোনারগাঁ থানা যেহেতু জেলা ছাত্রদল খাইরুল ইসলাম সজীবের নিজের থানা ও তার পিতার সংসদীয় অঞ্চল। সেহুতু সে চাইছে ওই থানার দায়িত্বে যেনো তার নিজস্ব এবং যোগ্য লোকের হাতে দেওয়া হয়।

এদিকে মশিউর রহমান রনি ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে কেবল অপারেটর ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মশিউর রহমান শান্তকে সোনারগাঁ থানা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে পেতে মরিয়া।

সোনারগাঁ থানার ছাত্র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শান্ত এক রহস্যময় চরিত্রের অধিকারী। সারা বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে যখন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ডিস ব্যবসা ইন্টারনেট ব্যবসা হয়ে থাকে সেখানে মশিউর রহমান শান্ত এরকম কঠিন অবস্থাতেও বীর দর্পনে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর আংশিক তথা দুই জেলার তার ব্যবসা বিস্তৃত করছেন। কোথা থেকে পায় তারা এই জাদুময়ী ক্ষমতা?

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ৭ খুন মামলার আসামী নূর হোসেনের শ্যালক সাবেক সাধারন সম্পাদক সোনারগাঁ থানা ছাত্রলীগের নূরে আলম খান ও বর্তমান সোনারগাঁ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন খানের বোনকে বিয়ে করার মধ্য দিয়েই সেই গোপনীয় শক্তির মালিক তিনি।
দিন দিন দূরদর্ষ আর বেপোরোয়া হয়ে উঠছেন, তার প্রভাবের মাত্রা দিন দিন যেন বেড়েই চলছে, কাউকেই মানছেন না কাউকেই কেয়ার করছেন না, তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারন জনগন।

তারা আরও জানান, রাজনৈতিক গায়েবী মামলায় যখন একটা ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীও দিশেহারা, তখন প্রায় মামলা শূন্য শান্ত। যে কিনা এক আধারে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, থানা ও জেলার সভাপতি প্রার্থী!

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক থানা ছাত্রদল নেতা বলেন, কেবল অপারেটর হিসেবে শান্তের মাসিক আয় অনেক, আর যার বৃহৎ অংশ যায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতির কাছে, যা কৃতজ্ঞতা স্বীকার হিসেবে জেলা সভাপতির কাছে শান্তর বিকল্প শান্তই!

অন্যদিকে এই শান্তকে থানার আহবায়ক করতে গিয়ে এক আধুনিক থিউরি আবিস্কার করেছেন মশিউর রহমান রনি। সে থিউরি হচ্ছে, জেলার নেতারাই থানার আহবায়ক হবে তাতে করে শান্তকে তার আহবায়ক করা সহজ হয়। আর এ নিয়েই ফুসে উঠেছে থানার তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের কথা হচ্ছে, জেলার নেতারা কোন ভাবেই থানায় দায়িত্ব নিয়ে আসতে পারবে না। কারন দীর্ঘদিন কমিটি না দেওয়ার কারনে থানার মধ্যেই একাধিক নেতা পাইপ লাইনে আছে। আর এ নিয়েই অশান্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

একই থানার অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শান্ত রাজপথে কাজ করেছে, এ নিয়ে আমার ভিন্নমত নেই। তবে ছাত্রদলের দায়িত্ব নিতে হলে পেশাগত দিক অবশ্যই বিবেচনা করা দরকার।

থানা ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, সোনারগাঁ থানার দায়িত্ব কোন ডিস ব্যবসায়ী বা যুবলীগ নেতার বোন জামাইয়ের হাতে দেয়া যাবে না।

এ বিষয়ে জানতে মশিউর রহমান শান্ত’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপনার সাথে আমার অনেক্ষণ কথা বলতে হবে। এ বিষয়ে আমি পরে কথা বলবো বলে তিনি সংযোগটি কেটে দেন।

গত কয়েকদিন আগে একটি সংবাদে রনি একটি পত্রিকাকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় জানান, যারা আন্দোলন করেছেন তাদের ভেতর কে কয়বার কারাবরণ করেছেন আর আন্দোলনে সক্রিয় থেকে পুলিশি নির্যাতন সহ্য করেছেন তা জানতে চাই। আমরা এমন ভাবেই কমিটি গঠন করতে চাই যেভাবে কমিটি কার্যকর থাকবে। নামকাওয়াস্তে কমিটি প্রদান করে নেতা বানিয়ে বসে থাকতে চাই না।

তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সংগঠনের অন্যন্য নেতাকর্মীরা গত শুক্রবার নিন্দা ও প্রতিবাদ বার্তায় তারা এ বলেন, রনির এ ধরনের বক্তব্য দ্রুত প্রত্যাহার করে সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের আগামীতে আর হেয় না করতে আহবান জানানো হচ্ছে। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের রাজপথের ত্যাগ তিতিক্ষা হয়তো সভাপতি রনির অজানা কিন্তু সংগঠনের জন্য কাজ করতে যেয়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা ব্যক্তি স্বার্থে নয় কাজ করেছে দল, জিয়া পরিবার ও দেশের জন্য। তাই রাজপথের কাজ ও কারা নির্যাতন এসব রনির নজরে না আসলেও দল অবগত বলে জানান নেতারা।

সোনারগাঁ থানা ছাত্রদলের তৃনমূলের এখন একটাই দাবি আওয়ামীলীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ভাজন নেতাকে পরিত্যাগ করে সোনারগাঁয়ের যোগ্য ও ত্যাগী কাউকে সঠিক মূল্যায়ন করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook