রবি. সেপ্টে ২৭, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

আমি আমার কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই: ডিসি জসিমউদ্দিন

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্য্যরে প্রয়োজন। আমরা কারো বিরুদ্ধে কেউ উস্কানিমূলক কথা বলবো না। নিজের কাজ করে দেখোবো যে আমি কারো পকেটের বা ব্যক্তির লোক নই। আমি আমার কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।’

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় চাষাঢ়ায় রাইফেলস্ ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রথমবারের মতো ই-ট্রাফিকিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিসি বলেন, ‘বক্তৃতায় নয় কর্মে বিশ্বাস করি। সুধী সমাজের মানুষকে নিয়ে আমরা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়বো। যেসব রাজনৈতিক নেতৃত্বরা দূরে বসে দুইমুখী আচরণে আছেন তাদের কাছে বারবার যাবো। আপনারা একই জায়গায় আসেন একই জায়গায় বসেন। উন্নয়নের মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ পিছিয়ে থাকলে চলবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি। এই ই-ট্রাফিকিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর মানুষ অনেক সুবিধা পাবে। আমার দরজায় বা এসপি সাহেবের দরজায় কাউকে যেতে হবে না। ওই স্থানে বসেই সে তার জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারবে। তবে সঠিক ব্যক্তিকে শাস্তি না দিয়ে অন্য ব্যক্তিতে শাস্তি দেই তাহলে এই কার্যক্রম যত সুন্দরই হোক না কেন আর ভালো লাগবে না। তাই সঠিক ব্যক্তিতে শাস্তি দিতে হবে।’

জসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমার আর পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বহু পুরনো। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও ভালোবাসা দিয়ে এখানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভুল পথ কিংবা অন্য ধরণের কোন পথ থাকে আমরা সেখান থেকে তাদের নিয়ে আসতে পারবো। আমার সে দৃঢ় বিশ্বাস আছে। আমরা একসাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান করবো।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভেতর থেকে কিন্তু অনুপ্রেরণা তৈরি হতে হবে। এই নারায়ণগঞ্জে ৬৪ জেলার মানুষ রয়েছেন। এখানে অনেক অনিয়ম সাধারণ মানুষ ইচ্ছা করে তৈরি করছে। তারপর যাদের সাহায্য নেই তাদের তোষামোদ করি এবং এই তোষামোদের পর্যায় অনেক বড় জায়গায় চলে যায়। আমরা তখন বাজে জেলা প্রশাসক হয়ে যাই অথবা অন্যদের নাম বা নাই নিলাম। আপনার মধ্যে কেন নেগেটিভ প্রবণতা তৈরি হবে? আপনি মাদক না খেলে, আপনার চাচাতো ভাই যদি মাদক ব্যবসা না করে তাহলে এসপি সাহেবের ধরা লাগে না। আর এসপি সাহেব ধরলেই অমুকের আত্মীয় হয়ে যাবে সেটাও তো লাগে না।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, মানুষের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি। আমরা এই ঐতিহ্যের জনপদকে সুন্দর করতে চাই। আগে মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা করতে হবে। ছোট ছোট বালু কনা দিয়ে পাহাড় গড়েন, আগেই পাহাড় খোঁজেন কেন?’

জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ সুপার যখন কোন নেগেটিভ রিপোর্ট দেয় তারপর কোন জেলা প্রশাসক বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটই কিন্তু সেটাকে ফেলে দেয় না। বরং চেষ্টা করে সেটা কার্যকর করার। আমরা বিশ্বাস করি সে কাজটা করতে পারবো। আমরা কাজ করলে মানুষ অন্য কোন ভবনে যাবে না, অন্য কারোর কাছে যাবে না। অনেক কষ্টের জীবনযাপন করেছি পূর্বে। সেসময় যখন টিকে থাকতে পেরেছি তাহলে একটা নারায়ণগঞ্জকে কেন সুন্দরভাবে সাজাতে পারবো না?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook