শুক্র. এপ্রি ১৬, ২০২১

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

কাউন্সিলর সাগরের বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্রুপের ৩শ’২২ বস্তা ত্রানের চাল বিক্রির অভিযোগ, স্থানীয়দের বিক্ষোভ

আজকের বাংলাদেশ ডেস্ক:-

করোনা দূর্যোগে শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংগ্রহ করা বন্দরে বসুন্ধরা সিমেন্ট কম্পানির ৩শ’২২ ত্রানের চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফয়সাল মো. সাগরের বিরুদ্ধে।

সোমবার ১৩ এপ্রিল সকালে ত্রানের চাল বিক্রির ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন এলাকার শত শত সাধারণ মানুষ। এদিকে, বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় কাউন্সিলর সাগরের বিরুদ্ধে চাল চোর কাউন্সিলর সাগর বলে শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসীর রোষানলে পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মো. সাগর।

ত্রানের চাল চুরির খবর পেয়ে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর সৈয়দ মিজানুর ও কাউন্সিলর সাগর ও শিউলী নওশাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে ১৯,২০ ও ২১নং ওয়ার্ডের কয়েক হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য বিভিন্ন মিল কারখানা হতে ৩শ,২২ বস্তা চাউল সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ত্রানের চাউল কাউকে না দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ইডি আরজু আহমেদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মদনগঞ্জ ব্যাপারী রাইছ এজেন্সির নিকট বিক্রি করে দেয়। এবং ত্রানের চাল বিক্রির বিষয় স্থানীয় কাউন্সিলর ফয়সাল মোঃ সাগর ও শিউলী নওশাদও অবগত ছিলো। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তারা কিভাবে এ কাজ করতে পারে।

পরে বসুন্ধরা গ্রুপের ইডি আরজু আহমেদ সাথে কথা বললে তিনি জানান, ৩শ’২২ বস্তা চাউল বিক্রির ব্যাপারটি সত্য কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে, এই চাউল বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বিতরণ করার কথা থাকলেও প্রকৃত পক্ষে চাউলগুলো বাকিতে কেনা হয়েছিলো। দুর্ভাগ্য বসত সোনালী ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে চাউল কেনার টাকা পরিশোধ করা যায়নি পরে উর্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে চাউলগুলো বিক্রি করতে আমরা বাধ্য হই।

আরজু আহমেদ আরও বলেন, ত্রানের চাল বিক্রির বিষয় নাসিক’র মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভিও জানেন। এবং বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করলে তারা আগামী ১৬ই এপ্রিল ত্রাণগুলো বিতরনের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করে।

১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাগর জানান, উল্লেখিত ব্যাপারটি নিয়ে কিছু কুচক্রী মহল নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতে উঠেছে। অনেকে গুজব রটিয়েছে আমি নাকি চাউল চুরি করেছি। মুলত: তারা আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে কাউন্সিলরের সুনাম নষ্ট করতে উন্মাদের মত নোংরামি করে যাচ্ছে। চাউল বিক্রয়ের বিষয়ে আমাদের অবগতির অভিযোগটিও মিথ্যা। অথচ চাউলগুলো কোন সরকারি ত্রান নয়। এবং এর সাথে নাসিক বা আমার ব্যাক্তিগত কোন সংশ্লিষ্টটা নাই। এটা সম্পুর্ন বসুন্ধরার গ্রুপের নিজস্ব ব্যাপার। আমাদের জোর করার কিছুই নেই। তবুও আমরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যাপারটি আমলে নিয়েছি। এবং জনগন যেন ত্রানগুলো পেতে পারে সেব্যাবস্থাই আমারা করেছি।

বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে যাওয়ার পরে বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, আমি সবার সাথে কথা বলে এবং সকল কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হয়েছি এগুলো কোন ত্রানের চাউল নয়৷ বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে যে চাউল দেয়ার কথা তা আগামী ১৬ই এপ্রিল আপনাদের পৌঁছে দিবে। তবে এ নিয়ে আর বিভ্রান্ত হবেন না। এবং আমাদের উপর আস্থা রাখুন এবং যার যার বাসায় ফিরে যান। পরি এসিল্যান্ডের পরামর্শে বিক্ষোভকারীরা বাসায় ফিরে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook