শুক্র. সেপ্টে ২৫, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

নাঃগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট :-

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে নিরীহ ইসমাইল, মনির, খোরশেদ ও সামসু গংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মামলাবাজ হাজী আমানুল্লাহ গংদের বিরুদ্ধে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিবেধ সৃষ্টি হলে প্রথম পক্ষ ইসমাইল, মনির, খোরশেদ গংরা জমির উপর আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু অপর পক্ষ আমানুল্লাহ ও খোরশেদ গং আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে বিচারধিন জমিতে থাকা দোকানপাট খুলে ব্যবসা করে যাচ্ছে এবং বাদী পক্ষকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই দোকান নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিলে ইসমাইল, মনির ও খোরশেদ গংরা থানায় একটি জিডি করার জন্য গেলে পুলিশ ঘটনা শুনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেন এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিকে পরক্ষণেই চতুর আমানুল্লাহ ও খোরশেদ গংরা থানায় গিয়ে একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে চুরি, লুটপাট, হত্যাচেষ্টা সহ মারধরের মিথ্যা গল্প সাজিয়ে ইসমাইল গংদের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। একই দিনে থানায় দুটি অভিযোগ হলেও অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এসআই আনোয়ার নিজে ঘটনাস্থলে না এসে মামলা নিয়ে এসআই হানিফকে দিয়ে নামমাত্র তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিক ইসমাইল গংদের গ্রেফতারের পায়তারা করছে।

জমিতে ১৪৫ ধারা জারি থাকার পরও কিভাবে আমানুল্লাহ খোরশেদ গংরা দোকান চালায় আবার তাদের বলতে গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে কেনো হয়রানি করে?

এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকার পর কেউ কিছু করতে পারবে না এটা ঠিক কিন্তু এই বিষয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ হওয়ায় এক পক্ষ মামলা করেছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফখরুদ্দীন ভূইয়া বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়েরের পর এ বিষয়ে এক পক্ষের মামলা হয়েছে।

এদিকে মামলার ঘটনা শুনে সরেজমিনে শ্রীরামপুর এলাকায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা গিয়ে দেখেন, মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিলো যে সাদেকের ছেলে জনি এবং মামুনের ছেলে সাগরকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় জনি অক্ষত অবস্থায় সুস্থ হিসেবে স্বাভাবিক ভাবে দোকানে বসে ব্যবসা করছে। একজন সুস্থ মানুষকে আহত দেখিয়ে এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ কর্মজীবী মানুষকে হয়রানি করার ঘটনায় এলাকায় পুলিশের প্রতি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রকৃত ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ধামগড় ইউনিয়ণের ১নং ওয়ার্ডের সমাজ সেবক ও প্রয়াত আব্দুল আউয়াল ভূইয়ার পুত্র খোরশেদ, ইসমাইল ও মাসুম গংদের সাথে তাদের ক্রয়কৃত ও দখলীয় আলী হোসেন মার্কেটের একটি সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার দীর্ঘদিন যাবত সৃষ্টি করে রাখে আমানউল্লা ও গোলজার গংরা। স্থানীয় সালিসি বৈঠকে বসেও এই সমস্যার সমাধান দিতে একাধিক বার ব্যার্থ হয়। তাই ঘটনাটি দিনে দিনে সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হতে থাকে। এমতাবস্থায় প্রয়াত আউয়াল ভূইয়ার মতো তার সন্তানরাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এবং এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালতের স্ব শরণাপন্ন হোন। যাহার নাম্বার দেঃনাঃ ৮৩/২০ এবং ০৩-০৯-২০২০ ইং তারিখে বিবাদী আমানউল্লাহ গং নোটিশ পাইবার সাথে সাথে উত্তেজিত হয়ে বাদীদেরকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও হত্যা করে এই জমি ছিনিয়ে নিবে বলে হুমকি দেয়। যাহা এলাকায় একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হতে থাকে। বাদী পক্ষ উপান্তর না পেয়ে জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করতে গেলে পুলিশ ডায়েরী না নিয়ে তার একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। যার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমকে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাদী বিবাদী ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসম্মুখে গত ০৪/০৯/২০২০ ইং শুক্রবার আনুমানিক ১১ টার দিকে বাদীদের ভোগ দখলকৃত সকল দোকানের চাবি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বুজে নেন এবং বাদীদ্বয় ও চাবি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমকে বুঝিয়ে দেন।

এসময় সকলের সামনে জাহাঙ্গীর আলম বাদী ও বিবাদীদের কোন ঝগড়া বিবেধ ছাড়া শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

এসময় ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, যেকোন জমি বা সম্পত্তির বৈধতা হচ্ছে কাগজপত্র ও দলিল দস্তাবেজ। আর এই কাগজ যাচাই বাছাইয়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।তাই আদালতের রায় ঘোষনার আগ পর্যন্ত আপনারা বাদী বিবাদী সহ সকলেই ঝগড়া বিবেধ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে জীবন যাপন করবেন। আইনের প্রতি সকলেই শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর বিজ্ঞ আদালত যে রায় প্রদান করবেন আপনারা উভয়পক্ষ সেই রায়কে সম্মানকে করে মেনে নিয়ে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন। বিজ্ঞ আদালতের রায় ঘোষনার আগ পর্যন্ত বাদীদ্বয়ের ভোগদখলীয় দোকান বন্ধ থাকবে এই সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে।

এসময় ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের এমন সাহসী পদক্ষেপে এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের জন্য এবং এলাকার একটি রক্তক্ষয়ী সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়িয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়ে ন্যায় নীতি আদর্শের সাথে জনস্বার্থে উপকারী ভূমিকা পালনের জন্য এলাকাবাসী কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের প্রশংসা করেন।

এসময় এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন পুলিশ প্রশাশন যে সাধারণ মানুষের বন্ধু হয়ে কাজ করেন তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম।

কিন্তু ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের এই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সমাধানের পরও গোলজার ও আমানুল্লাহ গং মিথ্যা মামলা দিয়ে ইসমাইল, খোরশেদ ও মনির সহ নিরীহ মানুষদের হয়রানি করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এবিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে নিরীহ মানুষকে পুলিশের মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাচাতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নিরীহ ইসমাইল, মনির, খোরশেদ সহ শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook