শনি. নভে ২৮, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

নাসিক ঠিকাদারকে চাঁদাবাজদের হুমকী ‘মাল নিবি না চাঁদা দিবি’   

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:-

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশব্যাপী চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী, মাদক বিরোধী অভিযান চলমান। সর্ব ক্ষেত্রে বন্ধ হচ্ছে অপরাধ ও দুর্নীতি। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, উন্নয়ন হচ্ছে জনগনের। এই উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করছে মাঠ পর্যায়ের এক শ্রেণীর চাঁদা বাজ। সসরকারের এমন কঠোর অবস্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট দেখিয়ে চাঁদার দাবিতে নির্মানকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ নারায়ণগঞ্জ সিটিকর্পোরেশনের এক কাউন্সিলর ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে নাসিক ২১ নং ওয়ার্ডের ছালেহনগরের নির্মানাধীন শাখা সড়কের কাজের সাইটে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাসিক ২১ নং ওয়ার্ডের ছালেনগর সড়কের শাখা রাস্তার ড্রেন নির্মান কাজ চলছে। নির্মান কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই এ এম এন্টাপ্রাইজ। ঠিকাদার, স্থনীয় মোঃ ফারুক’র কাছ থেকে শুরু থোকেই পাথর নিয়ে নির্মান কাজ করছে। কয়েক দিন ধরে কাউন্সিলর আলহাজ্ব হান্নান সরকারের অনুগামী বিএনপি সমর্থীত কাজল প্রধানের নেতৃত্বে ওই এলাকার রোবেল, হাবন, পিচ্চি আমির ও মাসুদসহ বেশ কয়েকজন পাথর দেওয়ার নামে নির্মান কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ফয়দা নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সূত্র মতে, অস্ত্র ও ধর্ষণ মামলাসহ বহু মামলার আসামী কাজল প্রধান, মাসুদ পুলিশ হত্যা মামলার আসামী। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনীয়ার মোঃ সফিক বলেন, কাজল কয়েক দিন আগে থেকেই আমাকে বলে পাথর নিতে হবে। আমি বলি ফারুক মাল দিচ্ছে। তার সাথে কথা বলেন। তখন কাজল বলে মাল নিতেই হবে। অন্যথায় মোটা অংকের চাঁদা দিতে হবে। তানাহলে কাজ বন্ধ করে দেবো। আমি বলি কাজ বন্ধ করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে কাজ বন্ধ করে দিতে বলে। পরে কাজল ও তার সহযোগীরা নির্মান কাজের সাইটে গিয়ে শ্রমিকদের মারমুখি আচরন করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং নিম্ন মানের ট্রাক ভর্তি পাথর এনে সড়কে জন চলাচলে প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি করে এবং পাথর রিসিভ করতে বলে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ীর ইন্সঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং পাথর ভর্তি ট্রাকটি ছালেহনগর সড়ক থেকে অপসারন করেন। এ বিষয়ে পাথর সরবরাকারী মোঃ ফারুক অভিযোগ করে বলেন, আমি শুরু থেকেই ভালো মানের পাথর সরবরাহ করে আসছি।বেশ কিছু দিন আগে থেকে কাউন্সিলর হান্নান সরকারের অনুসারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ কাজল,আমির আমার কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবী করে।না হলে আমাকে ব্যবসা করতে দিবেনা।এমনকি কাজের সাইট বন্ধ করে দিবে।আমি আইমের আশ্রয় গ্রহণ করেছি। জানতে চাইলে সাইটের অপর ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী ও আলামিন বলেন,কাউন্সিলর হান্নান সরকার তার লোকদের কাছ থেকে পাথর না নিলে ঝামেলা হবে। এ ঘটনায় স্থানীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,তেমন কিছু হয়নি। যা হয়েছে তা সমযোতা করে দিবেন স্থানীয় কাউন্সিলর। উপজেলা পরিদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের শেল্টার দিচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,ঘটনা শুনেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook