বুধ. অক্টো ২১, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের তোয়াক্কা না করে কিউআর কার্ড বিতরণের অভিযোগ কাউন্সিলর সুলতানের বিরুদ্ধে

আজকের বাংলাদেশ ডেস্ক:-

সারাদেশের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত ত্রাণ কমিটি গঠন করতে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিভাগ ও জেলা পর্যায় থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত এই কমিটি বিস্তৃত থাকবে। তারা প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করবে, যাতে যথাযথ মানুষেরা ত্রাণ পান।
গত (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের এ নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা যেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সাথে সমন্বয় করে যাতে ত্রাণ বিতরণ কমিটি গঠন করে কার্যক্রম চালায় সে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনাকে অমান্য করে নিজ স্বার্থ হাসিল করার লক্ষ্যে বি এন পি নেতা ও কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া বন্দর ২২ নং ওয়ার্ডে চালাচ্ছেন একনায়কতন্ত্র ও নিজের ইচ্ছা মত সমস্ত কর্মকাণ্ড।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের ১’হাজার ৮শ ৬৬ জন কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের কিউআর কার্ড বিতরনে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী কিংবা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় না করে তিনি তার ইচ্ছেমত জামাত-বিএনপি ও তার নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা ব্যক্তিদের প্রদান করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বন্দর ২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এরকম অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে, বন্দরের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের অধীনে এরা তাই আমি মেয়র এর সাথে এ বিষয়ে কথা বলব এবং কেন সমন্বয় না করে বিতরণ করা হলো করা তা জানতে চাইব।

এ বিষয়ে ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক আমিরুল ইসলাম জানান, কাউন্সিলর সুলতান তার নিজের ইচ্ছেমতো সরকারি কিউআর কার্ড বিতরণ করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাঝে। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকলেও সে আমাকে বা আমার সেক্রেটারি কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না করেই জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ত্রান সামগ্রী ও কিউআর কার্ড বিতরণ করছেন তা আমার বোধগম্য আসে না। সুলতান আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ডেমকেয়ার করে সরকারের ক্রান সামগ্রী দিয়ে সে তার নির্বাচনের আগাম প্রচারনা করছেন বলে আমার মনে হয়। এবং আমি তাকে এর আগেও ২ বার ফোন করলে সে রিসিভ পর্যন্ত করেনি। আমি কাউন্সিলর সুলতান এর এই ধরনের পদক্ষেপ এর বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাই ২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগ নেতা খান মাসুদ জানান, দল ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ কিন্তু তার পরেও আমরা কখনো দল করে কোনো প্রকার সুবিধা নেই নি। দলে থাকা অনেক গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষ রয়েছে, করোনা মহামারী দুর্যোগের সময় তাদের পাশে থাকাটা আমাদের অনেক জরুরী। তারপরও যতটুকু পেরেছি সাধ্যমত দেওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু সরকারি অনুদান যখন একজন বিএনপি’র কাউন্সিলর রাতের আধারে বিভিন্ন ভাবে তার দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করে তখন খুবই খারাপ লাগে আমি এই সমস্ত কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই সেই সাথে দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতা ও সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মনিটরিং না করায় খুবই দুঃখ প্রকাশ করছি। দ্রুত যেন তারা এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই কামনা করছি।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ আজকের বাংলাদেশ’কে জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো সম্পূর্ন মিথ্যা ভিত্তিহীন, আমি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকলের সাথে ও সর্বপ্রথম ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক আমিরুল ইসলামের সাথে পরামর্শ করে মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডারদের সাথে আলোচনা করে ১ হাজার ৮শ ৬৬ জনের মাঝে বিতরন করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook