বুধ. অক্টো ২১, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

ফতুল্লায় দখলবাজ জনি দিপুদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :-

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লায় সন্ত্রাসী জনি ও দিপু গংদের কাছ থেকে ৭১ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন বরাবর।

১১ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে মৃত মহিউদ্দিনের মেয়ে সঞ্জনা আল আবেদীন অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

সঞ্জনা আল আবেদীন লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘আমাদের রেল লাইন কোতালেরবাগ কবরস্থানের সাথে মোট ৭১ শতাংশ জমি ২০১৭ সালের ৪ জুলাই পাওয়ার রেজিস্টার করা হয়েছিল। এর কিছু বছর পর ২০১৮ সালের ৭ জুন আমার বাবা মারা যায়। এর কিছুদিন পরে স্থানীয় সন্ত্রাসী জনি ও দিপু আমাদের জমির ৩০ শতাংশের কাগজ বায়না করার কথা বলে নিয়ে যায়। অথচ এখন বলে আসছে, জনি ও দিপুর কাছ থেকে ওই জমি বাবদ ৩০ লাখ টাকা ধার নিয়েছি। তাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত প্রমাণ চেয়েছি যা তারা দিতে পারেনি। উল্টো বাকি ৪১ শতাংশ জমি ভাড়া নেয়ার কথা বলে জনি ও দিপু আমাকে ও আমার মা কে তাদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমাদের কাছ থেকে জমি লিখে নেয়ার চেষ্টা করে। তাই আমরা বাকবিতন্ডায় না জড়িয়ে কোন রকমে সেখান থেকে চলে আসি। পরে জানতে পারি যে, আমার বাবা মৃত মহিউদ্দিন মো. আক্তার হোসেনের কাছ থেকে জমির রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার নিয়েছিলেন। তাকেও জমি লিখে নেয়ার জন্য তাকেও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে জনি ও দিপু উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তখন আক্তার হোসেন বলেছিলেন যে, মৃত মহিউদ্দিন সাহেবের ওয়ারিশ রয়েছে তার স্ত্রী ও সন্ত্রানরা। যদি লিখে দিতে বলে তাহলে আমি তাকে লিখে দিবো। এতে করে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এর আগে মৃত মহিউদ্দিনের মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার ৪১ শতাংশ জায়গা। তিনি মারা যাওয়ার পর আমাদের জায়গার ভিতরে জনি, দিপু সহ তার লোকজনরা এই জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। সেখানে তারা মিল ফ্যাক্টরির নানা কাজ কর্ম পরিচালনা করছেন। এই জায়গা দখল করতে গেলে তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। আমরা আমদের জায়গা ফিরে পেতে পুলিশ প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ওই সম্পত্তির পূর্ব মালিক আক্তার হোসেন বলেন, আমি ফতুল্লায় রেল লাইনের পাশে একটা জমি কিনেছিলাম। পরবর্তীতে জমিটি মহিউদ্দিন নামে একজনের কাছে জমিটি বিক্রি করে দেই। তিনি মূলত আমার কাছে জমিটি পাওয়ার নিয়েছিল, সাব-রেজিস্টার করেনি। কিছুদিন পর তিনি মারা গেলে তার স্ত্রী ও সন্তান এই জমির মালিক হয়েছে। এদিকে জনি ও দিপু গংরা আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং জোর করে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে চায়। অন্যদিকে মৃত মহিউদ্দিন সাহেবের স্ত্রী আমার নামে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। কিন্তু আমার জমি দিতে কোন আপত্তি নেই, তবে মুরুব্বি নিয়ে বসে জমিটি রেজিস্ট্রি করতে হবে। অন্যদিকে ওই জমির পাশে অবস্থান করা সোহেল ওই জমির রেজিস্ট্রি বায়নার কাগজ দেখিয়ে মালিক দাবি করে। কিন্তু মহিউদ্দিনের স্ত্রী তা অস্বীকার করেছেন।

এছাড়াও জমি দখলের পাশাপাশি এস বি নিট কম্পোজিট নামের আরেকটি ফেক্টরী দখলের অভিযোগ রয়েছে সন্ত্রাসী জনি ও দিপু গংদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে এস বি নিট কম্পোজিটের মালিক শাহনাজ পারভীন অভিযোগ করে বলেন, আমার ৫ বছরের বৈধ চুক্তি থাকা সত্তে¡ও এ. আর. কম্পোজিট স্বত্ত¡াধিকারী মজিবর রহমান সোহেলের মৃত্যুর পর গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর মৃতের স্ত্রী রুনু বেগমের নির্দেশে আ. মতিনের ছেলে মাইবুবুর রহমান (মামুন), হাজী তৈয়্যব আলীর ছেলে জাহেদুর ইসলাম (জনি) ও আঃ রশিদের ছেলে মাসুমের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের সন্ত্রাসী দল আমার গেহটের দারোয়ানকে মারধর করে ভেতরে প্রবেশ করে ডাইং দখল করে নেয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায় কোন প্রকার সংঘাতের আশ্রয় নেই নাই। এমতাব¯’ায় চুক্তি অনুযায়ী ডাইংটি পুনরায় দখলের জন্য আপনাদের আইনানুগ সহযোগিতা আমার একান্তভাবে কাম্য।

এর আগেও গত ৪ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ৩ টায় মাহবুবুর রহমান মামুনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার লোকজনকে মারধর করে ডাইং থেকে বের করে দিয়ে জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে এবং আমার ব্যবসায়িক সাইনবোর্ডটি ভেঙেচুড়ে পাশের খালে ফেলে দেয় ও ফ্যাক্টরিতে লাগানো সিসিটিভি ও ক্যামেরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আরো হুমকি প্রদান করে যে, দেখি তোরা কিভাবে ডাইং দখল রাখিস।

শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘মূলত সোহেল সাহেবের মৃত্যুর পর আমাকে ব্যবসা হতে উৎখাত করার লক্ষ্যে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ নভেম্বর আমার ‘দেবর’ জামালকে একটি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল মো. জসিম উদ্দিন মাসুমকে বিষয়টি অবহিত করা হলে থানায় গেলে ওসি জসিম উদ্দিন মাসুমকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জামালকে থানা থেকে নিয়ে যেতে বাধ্য করান। পরবর্তীতে তিনি ৩০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামকে উক্ত বিষয়টি অবহিত করেন। পরে এসপির নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮ টায় ওসি এবং ১ম পক্ষের স্ত্রী ও তার লোকজনের সাথে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকে তারা আমাকে ওসির সামনে ডাইং ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন অন্যথায় দেখে নিবেন এবং জোর করে দখল করার ভয় দেখান।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook