বুধ. অক্টো ২১, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

বন্দরে করোনায় গাঁ ডাকা দিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

আজকের বাংলাদেশ ডেস্ক:-

বন্দরে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে থাকা কর্মহীন মানুষের পাশে নেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহনগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা হোসেন শান্তা।
এদিকে, লকডাউনে থাকা কর্মহীন মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও আওয়ামীলীগ নেতারা উপেক্ষা করে নিজেরাই চলে গেছেন হোম কোয়ারেন্টিনে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা ইস্যুতে মাঠে নেই বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এম এ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দন প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। শুধুই নির্বাচন আসলে এবং দলীয় পদ-পদবী প্রয়োজন হলে তখনই শোডাউন দিতে হঠাৎ দেখা যায় এসব নেতাদের। করোনা ভাইরাসের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই পার হতে চললেও তাদের দেখা যাচ্ছেনা। দুঃসময়ে সাধারণ মানুষ নন শুধু, দলের তৃনমূলের কর্মীদেরও খোঁজ নেন না তারা।

ক্ষুব্ধ হয়ে একাধিক নেতাকর্মী বলেন, নিজ দলের নেতাকর্মীদের পাশে নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের মাঝে কি পাশে থাকবেন নেতারা। দলের নেতারা নিজেদের শোডাউন নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচন এলে, পদ-পদবী নেয়ার সময় হলে, নেতা-কর্মীদের মনে পড়ে। করোনা ভাইরাসের মহামারীতে রুপ নিচ্ছে দেশ। খাবারের সন্ধানে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো যখন দিশেহারা ঠিক তখনই নীরবতা পালন করছে উপজেলা চেয়ারম্যানগন ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। ফলে দেশের এই কঠিন দুর্যোগময় মুহূর্তে ঘরে বন্দি বেকার, দুঃস্থ, কর্মহীন, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর ও অসহায় মানুষরা হতাশায় ভূগছেন। তারা আরও বলেন, নির্বাচন আসলে প্রতিটি মানুষের ঘরের খবর রাখে কিন্তু এদুর্দিনে তারা আজকে মানুষের পাশে নেই। বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ার পরে কাজিম উদ্দিনকে আর দেখা যাচ্ছেনা। এছাড়াও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদও গাঁ ডাকা দিয়েছেন।

এই দু:সময়ে সেই নেতারা পাশে থাকলে দলের ভাবমূর্ত্তি উজ্জ্বল হতো। নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত হতো। দরিদ্র লোকজন এসব নেতার কথা মনে করতো সারা জীবন। কিন্তু উপজেলাতে হাতে গোনা ২/৩ জন ছাড়া অন্যরা নীরব।

এ বিষয় বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এম এ রশিদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি নামাজে আছেন বলে সংযোগটি কেটে দেয়।

বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু বলেন, আমি আমার সাধ্যমতে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে থাকা কর্মহীন মানুষের মাঝে ব্যাক্তিগত ভাবে ত্রান সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছি। তবে ত্রান সামগ্রী আমি নিরবে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কাছে সরকারি কোন ত্রান এখনও আসেনি। যতটুকু আসছে ইউপি চেয়ারম্যাদের মাধ্যমে অসহায়দের মাঝে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজিম উদ্দিন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ লকডাউন হওয়ার পর থেকে আমি মুলত: বাসা থেকে বের হই না। সবারই সেফটি থাকা দরকার আমি মনে করি। আমার কর্মীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ত্রান সামগ্রী দিতাছে। আমি আগামী সপ্তাহে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করবো জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook