মঙ্গল. সেপ্টে ২৯, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

‘মেয়ে শিক্ষিত; যৌতুক লাগবে না’

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:

‘মেয়ে শিক্ষিত, যৌতুক লাগবে না’ এই কথা বলে পারিবারিকভাবে আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে আছিয়া আক্তার নূপুরের (২০) সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার মো. আলাউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ইয়াছিন চৌধুরীর (২৭)। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই বদলে যায় দৃশ্য। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকে স্বামী ইয়াসিন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও শুরু করে দেয়। সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়ী থেকে এক লক্ষ টাকাও এনে দেয় আছিয়া। বিয়ের দেড় বছর না যেতেই আবারও স্বামী ইয়াছিন দোকান ও বাড়ীর কাজ করানোর কথা বলে দাবি করে আরো যৌতুক। আবার সেই মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন।

বাবার বাড়ী থেকে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে না দেয়ায় তিন, চারদিন পর পর নির্যাতন চলাত জানিয়ে আছিয়া বলেন, শনিবার (৩১ আগষ্ট) দিবাগত রাত ১২ টা থেকে শুরু হয় তার উপর শশুর-শাশুড়ী এবং স্বামীর মানসিক অশান্তি। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে যায় স্বামী ইয়াছিন। প্রায় রাত ১টায় আবারও ঘরে এসে তাকে মারধর করে। রাত আনুমানিক ৩টায় আছিয়াকে রুমে রেখেই ঘরে আগুন জালিয়ে দেয় ইয়াছিন। জানালার পর্দায় আগুন ধরে গেলে সেই আগুনেই আছিয়ার গায়ে এসে পড়ে। তার বাম হাত ঝলসে যায় এবং মাথার চুলও পুড়ে যায়। আছিয়ার চিৎকার শুনে আশে-পাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে বলে জানায় আছিয়া। নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় গৃহবধূআছিয়ার সঙ্গে ঘটে এ ঘটনা।

ভূক্তভোগী আছিয়া আক্তারের মা বলেন, যৌতুকের জন্য ৩-৪ দিন পরপরই আমার মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত ইয়াছিন। মেয়ের সংসারের কথা ভেবেই এর আগে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দেন। তারপর আরও যৌতুক দাবি করে আসছে ইয়াসিন এবং তার সঙ্গে অমানবিক নির্যাতন। আমরা এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ চাই। আছিয়া আক্তার নূপুর বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের সহায়তা নিলে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে ইয়াছিন। তাছাড়া একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করার জন্য তারা আমাকে জোর-জবস্তির চেষ্টা করে।’

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় ভূক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook