বৃহঃ. সেপ্টে ২৪, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

রাঘববোয়ালদের ধরার জন্য অভিযান চলছে: আনোয়ার

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:

দুর্নীতির রুই-কাতলা, রাঘববোয়াল ধরার জন্য সারাদেশে অভিযান চলছে বলে মন্তব্য করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘ধৈর্য, সহনশীলতা যদি থাকে তাহলে রাজনীতিতে ভালো মানুষের আগমন ঘটবে। আজ দেশের যে অবস্থা বিরাজমান। জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির রুই-কাতলা, রাঘোববোয়াল ধরার জন্য অভিযান চালিয়েছে। কেউ কেউ ঘর ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, দেশ ছাড়া আর কেউ কেউ কারাবন্দি জীবনযাপন করছে। আমরা যারা ভালো মানুষ আছি, আমাদের কিন্তু ভয় নেই। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে। কারণ সততা একদিন নিশ্চিই প্রকাশিত হবে। আমরা চাই ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসুক।’

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত সিনামন রেস্তোরায় মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে ও বিএমএ’র সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জালাল ভাই যে সময় ছাত্রলীগের সভাপতি আমি তখন সহ-সম্পাদক। আজ ছাত্র রাজনীতির যে অবস্থা। ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অব্যাহতিপ্রাপ্ত হয়েছে। আমরা যখন রাজনীতি করেছি তখন আমাদের মধ্যে এমন অবস্থা ছিল না। জালাল ভাই কখনো কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদা চায় নাই। উল্টো নিজের পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। আর বর্তমানে ছাত্রলীগের নেতারা কোটি কোটি টাকা দাবি করছে, চাঁদা নিচ্ছে। এই হলো আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান। শেখ হাসিনা এই বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পেরেছে বলেই প্রথম অভিযান চালিয়েছেন ছাত্রলীগের উপর। আমার মনে হয়, এই রকম অবস্থা চলতে থাকলে ভালো মানুষ অবশ্যই রাজনীতিতে আসবে। এখন আসতে পারে না খারাপ মানুষগুলোর কারণে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানের যে রাজনীতি। রাজনীতিবিদের জনপ্রতিনিধি হওয়া মানেই কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া। এটাই যদি রাজনীতি হয় তাহলে এই রাজনীতি বেশি দিন টিকবে না। আসুন আমরা যে জায়গায় আছি সেখান থেকে মানুষের সেবা করি। চিকিৎসব হিসেবে আমরা মানুষের সেবা করি।’

মহানগর আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আজকাল হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, চিকিৎসকরা সেবা না দিয়ে ছুটি কাটায়। গেলেও তারা করে কি, চিকিৎসা বাণিজ্যে মেতে উঠে। দলবাজি করে। আমার দলের লোক বলে ভালো জায়গায় পোটিং দেবো, অন্যদের খারাপ জায়গায়। এগুলো চিকিৎসদের চিন্তা ধারায় আসা উচিত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বিএমএ ও স্বাচিপের যে অবস্থা বিরাজমান। আসলে এই সংগঠনগুলো এমন নেতৃত্বে আসা উচিৎ। দলের একটি সহযোগী সংগঠন যখন দলের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে যোগাযোগ, দলীয় নেতাদের যদি মূল্যায়ন না করে। এই সমস্ত মানুষ দিয়ে নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্ব আশা করা যায় না।’

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দপ্তর সম্পাদক ডা. শহীদুল্লা, স্বাচিপ’র জেলা সভাপতি ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল, বিএমএ’র সাবেক সভাপতি ডা. শাহজাহান চৌধুরী, স্বাচিপ’র সহ-সভাপতি ডা. নিজাম আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. অলোক কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহের প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook