মঙ্গল. সেপ্টে ২৯, ২০২০

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

সিদ্ধিরগঞ্জে ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত নাসিকের ড্রেনে মাঝ পথে দেয়াল!

আজকের বাংলাদেশ রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ৫ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর সুবিদার্থে রাস্ত ও ড্রেন নির্মাণ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্র্পোরেশন। তবে রাতের আধারে ড্রেনের মাঝে ইটের প্রাচীর দিয়ে ড্রেনের পথ আটকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার ইব্রাহীম নামের স্থানীয় এক ডাক্তার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় ইব্রাহীম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারছে না কেউ। এমনকি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে নাসিক বা থানায় কোন অভিযোগও করতে পারছে না।

তবে নাসিকের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন দেবনাথ জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনে কেউ দেয়াল দেয়া বা বাধা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। আমরা এ ব্যাপারটির খোজ খবর নিব।

সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৫ নং ওয়ার্ডের সাইলোর সরদার বাজার এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ শুরু করে নাসিক কর্তৃপক্ষ। ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যায়ে ৩৮২ ফুট দীর্ঘ রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শুরু করে মেসার্স আলী, মেসার্স আল-আমিন এবং আশেক এন্ড সন্স এন্টারপ্রাইজ নামক ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান ৩টি ড্রেন নির্মাণ করার পর স্থানীয় শহিদুল্লাহ ও তার ছেলে ডা. ইব্রাহীম ড্রেন নির্মাণে বাধা দেয়। তাদের যুক্তি তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলে তাদের বাড়িতে ড্রেনের পানি প্রবেশ করবে বা ড্রেনের দুর্গন্ধ তাদের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়বে। পরবতীতে সংশ্লিষ্ট ঠিকদার তাদের বাধা উপেক্ষা করে ঐ ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন করে। এতে ডা. ইব্রাহীম ও তার পিতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়িরে সামনের অংশে ড্রেনের ভিতরে ইটা দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করে দেয়। রাতের মধ্যে তাদের নির্মিত দেয়াল সকালে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দেখে হতবাক হয়ে পড়ে। এসময় এলাকাবাসী তাদেরকে এর কারণ জানতে চাইলে তারা এ ড্রেন দিয়ে পানি চলাচল হতে দেবে না বলে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেয়। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী ও ঠিকাদার কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। এলাকার মুরুব্বীরা এ নিয়ে তাদের সাথে সমঝোতায় যেতে চাইলেও তারা ড্রেনের দেয়াল ভাঙ্গবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। সপ্তাহখানেক পূর্বে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ঐ ড্রেনের উপর স্লাব (ঢাকানা) বসিয়ে দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, বাংলাদেশ আন্তজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন সাইলো শাখার সভাপতি মো. কবির হোসেনের ভগ্নিপতি শাহিদুল্লাহ। তার প্রভাবে তারা এ দেয়াল নির্মাণ করে। একই প্রভাবে তারা সরকারী জায়গাও দখল করে তাদের বাড়ির অংশ বর্দ্ধিত করে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা ঐ ড্রেন নির্মাণ করার সময় অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলাম। ইব্রাহীম ও তার বাবা শহীদুল্লাহ আমাদের কাজে অনেক বাধা দিয়েছিল। আমরা তাদেরকে অনেক বুঝিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেছি। এখন তারা ঐ ড্রেনের ভিতরে ইটাদ্বারা দেয়াল নির্মাণ করে দিয়েছে। আমরা রাস্তার কাজ শেষ করার পর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেয়াল ভেঙ্গে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

অভিযুক্ত ডাক্তার ইব্রাহীম এ বিষয়ে বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে পানি চলাচল করলে আমাদের বাড়িতে ড্রেনের দুর্গন্ধ আসবে। তাই আমরা এ ড্রেনে দেয়াল নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায় শহিদুল্লাহ।

নাসিক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। তাছাড়া কেউ দলীয় পরিচয়ে প্রভাব দেখাবে সেটা চলবেনা। স্বাধীন দেশের নাগরীক হিসেবে সবারই সুষ্ঠুভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook