জুলাই ২৯, ২০২১

দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

সত্য প্রকাশে আপোষহীণ…

সোনারগাঁয়ে বিয়ে পাগল স্বামীর কারনে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বিলীন হলো দুই কলেজ শিক্ষার্থীর

রাশেদুল হাসান অভি:-

নারায়নগঞ্জ সোনারগাঁয়ে বিয়ে পাগল যৌতুক লোভী লম্পট স্বামীর কারনে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন থেকে বিলীন হয়ে গেল দুই কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর। সরেজমিনে জানা যায়, পৌরসভার দরপত এলাকার আবুল কাসেমের পুত্র লম্পট ইউছুফের সাথে সনমান্দী ইউনিয়ন চেঙ্গাকান্দী গ্রামের সৌদী প্রবাসী ইসহাক মিয়ার কন্যা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তামান্নার(১৯) সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পরিবারের পক্ষ থেকে ইউছুফকে খাট,আলমারি,সুকেস ও স্বর্ন গয়না সহ প্রায় দুই লক্ষ টাকার আসবাবপত্র প্রদান করে। তাতে মন ভরেনি যৌতুক লোভী স্বামী ইউছুফ ও তার পরিবারের। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামির পরিবারের পক্ষ থেক শুরু হয় তামান্নার উপর অত্যাচার। ফলে যৌতুক লোভী লম্পট ইউসুফের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রনা সইতে না পেরে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকার জামাল প্রধান গং বিয়ে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করেন। এদিগে বিয়ে বিচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো একই এলাকার চেঙ্গাকান্দী গ্রামের দিন মজুর কলেজ পড়ুয়া আয়নাল হকের মেয়ে সাদিয়াকে(২০) বিয়ে করে। বিয়ের সময় সাদিয়ার পিতা মেয়ের সুখের কথা ভেবে লম্পট যৌতুকলোভী স্বামী ইউছুফকে আসবাবপত্র ও স্বর্ন গয়না সহ প্রায় তিন লক্ষ টাকার সরন্জাম প্রদান করে। তাতে মন ভরেনি আবুল কাসেমের পুত্র ইউছুফের। বিয়ের পর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রী সাদিয়াকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতে থাকে। ফলে বিয়ের একমাস যেতে না যেতেই দ্বিতীয় বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এ ব্যাপারে কলেজ পড়ুয়া তামান্না,সাদিয়ার সাথে কথা বললে তারা জানায় কার সাথে ঘর সংসার করব। যে স্বামীর পুরুষ ক্ষমতাই নেই তার সাথে সংসার করা না করা সমান। তাছাড়া সে একজন লম্পট ও যৌতুকলোভী। তামান্না জানায় আমি সবে মাত্র ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জীবনে স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে দেশের সেবা করব। কিন্তু কুসংস্কার অন্ধকার সমাজ আর যৌতুকলোভী স্বামী সেই স্বপ্নকে ভেঙ্গে দিল। সাদিয়ার ভাষ্য ও তাই। তার মতে একজন যৌতুকলোভী বেরাইম্মা স্বামী ইউছুফের কারনে মাত্র আট মাসের ব্যবধানে আজ আমাদের দুইটি জীবনের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেল। ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করে অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটাব। কিন্তু তা আর হলো না। সমাজে যার কাছেই যাই সবাই লম্পট যৌতুকলোভী ইউছুফের টাকার কাছে বিক্রি। চলার পথে সমাজের কিছু লোকজন আলোচনা সমালোচনা করে। কারো কথার প্রতিবাদ করতে পারিনা। তাই আজ আমাদের মত দুজন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জীবন যার কারনে নষ্ট হয়েছে তার যেন সুষ্ঠ বিচার হয়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন একজন মেয়ে হয়ে যেন আপনার মাধ্যমে আমাদের সুবিচার পাই। তাছাড়া তামান্না সাদিয়ার নিকট থেকে লম্পট ইউছুফ যে আসবাবপত্র নিয়েছে তা ফেরত পর্যন্ত দেয়নি। সে সকল আসবাবপত্র ও ফেরত চায় তামান্না সাদিয়ার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us on Facebook